7 Crore+ Customers
Affordable Premium
ডিজিটাইজেশন প্রায় সমস্ত কেওয়াইসি নথির ইলেকট্রনিক ভার্শনের জন্ম দিয়েছে। আর এই দৌড়ে পাসপোর্টও খুব একটা পিছিয়ে নেই।
বিদেশমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের মতে, অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় নাগরিকেরা আরও উন্নত নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য সহ ই-পাসপোর্ট পেতে সক্ষম হবেন।
ই-পাসপোর্ট কী এবং এর বৈশিষ্ট্যগুলি সম্পর্কে এখানে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে।
ই-পাসপোর্ট হল একটি বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকেশন কার্ড সহ একটি চিপ-এনেবলড পাসপোর্ট যা আপনার ভ্রমণের নথিপত্রগুলির স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
তবে, আবেদন, যাচাইকরণ এবং তথ্যের দিক থেকে একটি নিয়মিত পাসপোর্টের থেকে এটি কোনওভাবেই আলাদা নয়।
ভারতে ই-পাসপোর্টের অনন্য সুবিধাগুলি হল -
ই-পাসপোর্ট থাকা যাত্রীদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না কারণ এটিকে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্ক্যান করা যায়।
এটির মধ্যে একজন ব্যক্তির বায়োমেট্রিক রেকর্ড আছে। সুতরাং, এটি প্রতারকদের তথ্য জাল করা এবং নকল পাসপোর্ট তৈরি করা থেকে আটকাবে।
এটি বিকৃত করলে, চিপ পাসপোর্ট অথেন্টিকেশন ব্যর্থ হয়ে যাবে।
এটি থেকে কেউ তথ্য মুছে ফেলতে পারে না।
ই-পাসপোর্টের 41টি নিরাপত্তামূলক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আবেদনকারীর বয়সের উপর ভিত্তি করে এটি 5 বা 10 বছরের জন্য বৈধ থাকে।
এদের মধ্যে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল -
একটি ল্যামিনেটেড ফিল্মে এমবস-করা হলোগ্রাফিক ছবি থাকে যেটি রঙ পরিবর্তন করে এবং আলোর নীচে সরানো যায়।
বাহকের জনতত্ত্ব সম্পর্কিত তথ্য।
বাহকের বায়োমেট্রিক তথ্য।
বাহকের হাতের সম্পূর্ণ 10টি আঙুলের ছাপ।
বাহকের আইরিস স্ক্যান।
বাহকের রঙিন ছবি।
বাহকের ডিজিটাল স্বাক্ষর।
ভারতে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পদ্ধতিটি নিয়মিত বা এমআরপি-র মতোই। এর পদ্ধতিটি হল -
পাসপোর্ট সেবা ওয়েবসাইটে যান এবং "রেজিস্টার নাও"-এ ক্লিক করুন অথবা আপনার বিদ্যমান আইডি দিয়ে লগ ইন করুন।
"অ্যাপ্লাই ফর ফ্রেশ পাসপোর্ট" বা "রি-ইস্যু অফ পাসপোর্ট"-এ ক্লিক করুন।
সমস্ত বিবরণ প্রদান করুন এবং "সাবমিট" টিপুন।
অর্থ প্রদান করার জন্য "পে অ্যান্ড শিডিউল অ্যাপয়েন্টমেন্ট"-এ ক্লিক করুন।
এই পদ্ধতিটি সম্পূর্ণ করার পরে, রসিদটি প্রিন্ট করুন অথবা পিএসকে/পিওপিএসকে/পিও-তে অ্যাকনলেজমেন্ট এসএমএসটি দেখান।
একটি ই-পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় নথিগুলি নিয়মিত পাসপোর্টের মতোই হয়। প্রথমবার আবেদনকারীদের নিম্নলিখিত নথিগুলির প্রয়োজন হয় -
ঠিকানার প্রমাণ - নিম্নলিখিত নথিগুলির মধ্যে যে-কোনও একটি ঠিকানার প্রমাণ হিসাবে কাজ করবে -
আধার কার্ড
টেলিফোন বিল
বিদ্যুৎ বিল
জলের বিল
গ্যাস কানেকশনের প্রমাণ
ভাড়া সংক্রান্ত চুক্তি
ফোটো সহ একটি সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাসবুক (যে-কোনও শিডিউলড প্রাইভেট সেক্টর, পাবলিক সেক্টর, বা গ্রামীণ, আঞ্চলিক ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট)
স্বামী/স্ত্রী হিসাবে উল্লিখিত আবেদনকারীর নাম সহ স্বামী/স্ত্রীর পাসপোর্টের কপি প্রথম এবং শেষ পৃষ্ঠা সহ। এছাড়াও, আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানার সাথে পাসপোর্টে উল্লিখিত স্বামী/স্ত্রীর ঠিকানার মিল থাকতে হবে।
এটি উল্লেখ্য যে ব্যক্তিরা গত বছর থেকে যে সমস্ত জায়গায় বসবাস করেছেন তার বিশদ বিবরণ দিতে হবে।
জন্ম তারিখের প্রমাণ - আপনি নিম্নলিখিত নথিগুলির মধ্যে যে-কোনও একটি জন্ম তারিখের প্রমাণ হিসাবে প্রদান করতে পারেন -
বৈধ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জন্মের সার্টিফিকেট।
কর্তৃপক্ষ এবং এডুকেশন বোর্ড দ্বারা ইস্যু করা ম্যাট্রিকুলেশন, ট্রান্সফার, অথবা স্কুল ছাড়ার সার্টিফিকেট যেখানে স্কুলে যাওয়ার শেষ তারিখ উল্লিখিত রয়েছে
প্যান কার্ড
আধার কার্ড
ড্রাইভিং লাইসেন্স
ভোটার আইডি কার্ড
আবেদনকারীর নামে লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি
যাদের নিয়মিত পাসপোর্ট রয়েছে এবং সেটি পুনরায় ইস্যু করার জন্য আবেদন করছেন, তাদের নিম্নলিখিত নথিগুলি জমা দিতে হবে -
আসল পাসপোর্ট
পাসপোর্টের প্রথম ও শেষ পৃষ্ঠার কপি।
পর্যবেক্ষণ পৃষ্ঠা
ইসিআর অথবা নন-ইসিআর পৃষ্ঠা
একটি ই-পাসপোর্ট 64-কিলোবাইট স্টোরেজের এমবেড-করা আয়তক্ষেত্রাকার অ্যান্টেনা ধরনের ইলেকট্রনিক চিপের ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল হয়ে কাজ করে।
ই-পাসপোর্ট কী তা জানার পাশাপাশি, ভারতীয়দের এই আবিষ্কারের নির্মাতাদের সম্পর্কেও অবশ্যই জানতে হবে।
এটি ভারতের তিনটি প্রধান প্রযুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠানের সংযোগ দ্বারা তৈরি করা হয়েছে -
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-কানপুর।
ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (এনআইসি)।
ইন্ডিয়া সিকিউরিটি প্রেস এবং বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা।
এটির ইনলে বিশ্বজুড়ে নির্বিঘ্নে কাজ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের মানদণ্ড মেনে চলবে। এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে কোনও দূরবর্তী উৎস থেকে এর তথ্য অ্যাক্সেস প্রতিরোধ করা যায়।
একটি ইলেকট্রনিক ডেটা চিপ সহ ই-পাসপোর্ট ভারতে একটি নিয়মিত পাসপোর্টের তুলনায় নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত স্তর প্রদান করে। এটি পাসপোর্টকে তার আসল মালিকের সাথে আরও ভালভাবে সংযুক্ত করে সেটি জাল হওয়া থেকে প্রতিরোধ করে।
সাধারণত, একটি নিয়মিত পাসপোর্ট বা মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে (এমআরপি) সেটির মালিক সম্পর্কে মুদ্রিত তথ্য সহ ডেটা পেজ থাকে যেটি একটি অপটিক্যাল রিডার স্ক্যান করে নিতে পারে।
বর্তমানে, বিশ্বের প্রায় 120 টি দেশে ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। একজন ব্যক্তি যে-কোনও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে অথবা নথির প্রমাণ হিসাবে এটি ব্যবহার করতে পারেন।
এখন আপনি ই-পাসপোর্ট কী তা জানেন, অতএব আপনি এটাও বুঝতে পেরেছেন যে, এটি সরকার এবং নাগরিক উভয়ের জন্য কতটা সহায়ক। এই ইলেকট্রনিক চিপ-এমবেড করা নথি নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট যাচাইকরণের পদ্ধতিকে ত্বরান্বিত করবে।