7 Crore+ Customers
Affordable Premium
আপনার পাসপোর্টে দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স বৈশিষ্ট্য আছে কিনা বা ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সুবিধা প্রদান করে কিনা আপনি কীভাবে জানবেন?
এ জন্য, আপনাকে বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় পাসপোর্ট এবং সেগুলির নিজস্ব তাৎপর্য সম্পর্কে কিছুটা জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
যে কোনও সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে জানা সম্ভব না কত ভিন্ন ধরণের পাসপোর্ট আছে। যাইহোক, ভিন্ন ধরনের ভিসার মতোই, পেশার বিভিন্নতার উপর ভিত্তি করে মানুষের ভিন্ন ধরনের নথির প্রয়োজন হয়।
চলুন ভারতে ব্যবহৃত ভিন্ন পাসপোর্ট ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক!
এছাড়াও আছে টাইপ P পাসপোর্ট, ভারতের সাধারণ জনগণের জন্য, বিদেশে ছুটি কাটানো বা ব্যবসার কাজে ভ্রমণ পরিকল্পনায় ইস্যু করা হয়। এই নীল রঙের পাসপোর্ট অন্যান্য দাপ্তরিক স্থিতির পাসপোর্ট থেকে সহজেই আলাদা করা যায়
ব্যবহার: সাধারণ মানুষ ছুটি কাটানো বা ব্যবসার কাজে ভ্রমণ করতে এই পাসপোর্ট ব্যবহার করে।
সুবিধা: এই ধরনের পাসপোর্টের সাহায্যে বিদেশী কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে সহজেই পার্থক্য করতে পারে।
এই ধরনের পাসপোর্ট শুধুমাত্র সরকারী উদ্দেশ্যে দেশের বাইরে ভ্রমণকারী ভারতীয় সরকারী আধিকারিকদের জন্য ইস্যু করা হয়। এই আধিকারিকদের মধ্যে আছেন আইএএস এবং ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা বিভাগে কাজ করা ব্যক্তিরা।
ব্যবহার: সরকারি আধিকারিকরা দপ্তরের কাজে বিদেশ ভ্রমণের জন্য এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেন।
সুবিধা: সাদা পাসপোর্টের সাহায্যে অভিবাসন দাপ্তরিক সহজেই সরকারী আধিকারিকদের সনাক্ত করতে এবং তাদের সাথে তদনুসার আচরণ করতে পারেন।
এই পাসপোর্টগুলি সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণকারী সরকারি আধিকারিক এবং কূটনীতিকদের ব্যবহারের জন্য। যে কোনও সরকারি প্রতিনিধির সাদা পাসপোর্ট না থাকলে তাকে ফরেন ট্রিপের জন্য কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করতে হবে।
ব্যবহার: ভারতীয় কূটনৈতিক নেতা এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি দাপ্তরিকরা বিদেশ সফরে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সময় এই পাসপোর্ট ব্যবহার করেন।
সুবিধা: মেরুন পাসপোর্টধারীদের উপলব্ধ সুবিধা সব থেকে বেশি, তার মধ্যে ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুযোগ (বিদেশ ভ্রমণের সময়) সবচেয়ে সুবিধাজনক। যতদিনের জন্য বিদেশে থাকার সিদ্ধান্ত নিক না কেন, ফরেন ট্রিপের জন্য তাদের কোনও ভিসার প্রয়োজন হবে না। উপরন্তু, এই পাসপোর্টের সাহায্যে তারা দ্রুত অভিবাসন প্রক্রিয়া উপভোগ করতে পারে।
সর্বোপরি, সাধারণ পাসপোর্টধারীদের তুলনায় এই ধরনের ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ।
2018 সালে সরকার কমলা রঙের পাসপোর্ট চালু করেছে, যাতে ঠিকানার পৃষ্ঠা থাকবে না। 10ম শ্রেনী পরবর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এমন ব্যক্তিদের জন্য মূলত এই ধরনের পাসপোর্ট ডিজাইন করা হয়েছে। এই ব্যক্তিরা ইসিআর ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।
ব্যবহার: 10ম শ্রেনী পরবর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই এমন স্বতন্ত্র ব্যক্তি বিদেশে যাওয়ার জন্য এই পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন।
সুবিধা: ভিন্ন ধরনের পাসপোর্ট প্রবর্তনের মূল উদ্দেশ্য অল্পশিক্ষিত নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই ব্যবস্থায়, ইসিআর প্রতিপাদন এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।
উপরে উল্লিখিত প্রতিটি ধরনের পাসপোর্টের উদ্দেশ্য আলাদা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য ইস্যু করা হয়। এখানে সমস্ত যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা দেওয়া হয়েছে,
নীল পাসপোর্ট - সাধারণ জনগণ
সাদা পাসপোর্ট - সরকারি আধিকারিক
কূটনৈতিক পাসপোর্ট - ভারতীয় কূটনীতিক এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি আধিকারিক
কমলা পাসপোর্ট - 10ম শ্রেনী পরবর্তী পড়াশোনা করেননি এমন স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের জন্য।
এখন আপনি প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন, আসুন বিভিন্ন ধরনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য নীচের উল্লিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন -
ধাপ 1: পাসপোর্ট সেবার অনলাইন পোর্টালে পরিদর্শন করুন এবং আপনার বিদ্যমান আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগ ইন করুন। প্রথমবারের জন্য সাইট পরিদর্শনকারীর প্রথমে নিজের নিবন্ধন করা প্রয়োজন।
ধাপ 2: এবার, 'ফ্রেশ পাসপোর্ট/ পাসপোর্ট পুনঃসংশ্লিষ্ট' নির্বাচন করুন এবং আবেদনপত্র পূরণ করুন।
ধাপ 3: এরপর, জমা দেওয়ার জন্য 'আপলোড ই-ফর্ম' ক্লিক করুন।
ধাপ 4: এখন, অর্থ প্রদান করার জন্য এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করার জন্য ‘পে অ্যান্ড শিডিউল অ্যাপয়েন্টমেন্ট’ ক্লিক করুন।
'প্রিন্ট আবেদন রসিদ' ক্লিক করে আপনি নিজের অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা রেফারেন্স সংখ্যা সম্বলিত অর্থপ্রদানের রসিদ প্রিন্ট করতে পারেন।
এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে, যেখানে আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করা হয়েছে সেই পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র বা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস পরিদর্শন করুন। প্রতিপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি সাথে রাখতে ভুলবেন না।
এর পরে, আপনাকে পুলিশ যাচাইকরণ করা প্রয়োজন। এখানে, তারা আপনার ফর্মে প্রদত্ত সমস্ত তথ্য মূল্যায়ন করবে এবং সেখানে উল্লিখিত ঠিকানা পরিদর্শন করবে।
আপনার কাছে সমস্ত নথি প্রস্তুত না থাকলে নতুন পাসপোর্ট পাওয়া কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হতে পারে। পাসপোর্ট আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নথি সম্পর্কে জানার জন্য পড়ুন।
অহেতুক ঝামেলা এড়ানোর জন্য, নিম্নলিখিত নথি হাতে রাখতে ভুলবেন না -
ঠিকানার প্রমাণ (আধার কার্ড, বিদ্যুৎ বিল, ভাড়ার চুক্তি, টেলিফোন/ পোস্ট-পেইড মোবাইল বিল, আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবুক, স্বামী / স্ত্রীর পাসপোর্ট কপি, ইত্যাদি)
জন্ম তারিখের প্রমাণ (জন্ম শংসাপত্র, স্কুল স্থানান্তর/ ত্যাগের শংসাপত্র, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড, ইত্যাদি)
নথি ছাড়াও, প্রতিটি ব্যক্তিকে পাসপোর্টের বৈধতা এবং মেয়াদ সম্পর্কে জানতে হবে। এর সাথে আরও জানুন!
আপনার পাসপোর্ট যে ধরনের হোক না কেন, শুধুমাত্র 10 বছরের জন্য বৈধ হবে। অতএব, আপনাকে সেই সময়ের মধ্যে এটি পুনর্নবীকরণ করা নিশ্চিত করতে হবে। সহজ ইন্টারনেট ব্যবহারের সাহায্যে, বিভিন্ন ধরণের ভারতীয় পাসপোর্টের পুনর্নবীকরণ প্রক্রিয়া অনলাইনে করা যেতে পারে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করতে ভুলবেন না। অন্যথায়, আপনাকে ‘পাসপোর্ট পুনঃইস্যু’ করার জন্য আবেদন করতে হবে এবং মেয়াদ শেষ হবার পর 3 বছরের বেশি সময় পার হলে নতুন করে পুলিশ যাচাইকরণ করতে হবে।